হ্যাঁ আমরা প্রস্তুত

প্রথমেই Anandabazar Patrika কে ধন্যবাদ,
লেখাটি ২০ ফেব্, প্রকাশ করার জন্য, নদিয়া – মুর্শিদাবাদ প্রচ্ছদে ৷

ক্ষতিটা পুরো দেশের হয়েছে
তাই ক্ষতিপূরণের দায়িত্বও পুরো দেশবাসীর ,
শুধুমাত্র ভারত নয় রবি ঠাকুরের আরেক দেশ বাংলাদেশেরও অসংখ্য ভাই-বোনেরা গতকালের বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে, আমাকে দ্রুত কিছু লেখার জন্য বলেছেন৷ তোমাদের সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচয় পেয়ে আমি আরো অনেকটা মনের জোর পেয়েছি৷ সুস্পষ্ট স্বীকারোক্তি , তোমাদেরও পাশেই আছি সবসময়…

ধন্যবাদ Bangladesh

ANISH UNCUT
Anish Ranjan Chatterjee

গতকালের মর্মান্তিক কাপুরুষোচিত দেশীয় ক্ষতির পর আমরা নিজেদের ক্ষমতার আস্ফালন অনেক করে ফেলেছি,
শোকমিছিল, মোমবাতি মিছিলও অনেক হলো,
যা ক্ষতি হয়ে গেছে তার কিছুমাত্র সুরাহা হলো কী?
হলোনা, কারণ
প্রতিবাদের ভাষা এটা নয়,
আমি গতকাল ভাষাহীন হয়ে পড়েছিলাম,
সুবৃহৎ দেশীয় ক্ষতিকে সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করা যায়না ;
ঘটনার তীব্রতা ঠিক এতটাই কষ্টজনক, যে যাই লিখবো, সেটাই কম মনে হবে..
মানবিকতার এতবড় অবক্ষয়, মেনে নেওয়া তো দূরের কথা, ভাবতেও ঘেন্না হচ্ছে ,
গান্ধী নীতি অনেক হলো,
এবার নেতাজিবাদ কী শুরু হলো?
না এখনো শুরু হয়নি,
তবে হওয়ার আশা রাখি ,
সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়েছে..

সৈনিকে পরিণত হওয়ার সৌভাগ্য নিয়ে আমরা অনেকেই জন্মায়নি, একটা বিপুল পরিমাণ দেশীয় ক্ষতির সমাধান শুধুমাত্র আমাদের লেখার মাধ্যমে সম্ভব নয়।
এক দেশ মঙ্গলে প্রান খুঁজছে
আর এক দেশ প্রানবিনাশের খেলায় মাতছে,
কঠোর দেশীয় প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় তামাম দেশবাসী
বদলা শুধু সময়ের অপেক্ষা,
যদিও শুধুমাত্র বদলা নয়
সঙ্গে বদলও চাই..
যা কিছু করার সবটাই আমাদের দেশের বীর সেনা জওয়ানেরা আবারও করবে,
আমরা আশারাখি প্রতিবাদের মাত্রাটাকে ভয়ানক মাত্রায় নিয়ে যেতে পারবো সবাই এবং সব শ্রেনীর এবং সব ধর্মের মানুষ ,
এটাই এইমুহূর্তে আমাদের একমাত্র অঙ্গীকার হওয়া উচিত,
যাতে ভারত শব্দটা আতঙ্কবাদীদের কাছে দিনগত দুঃস্বপ্ন মনে হয় । আতঙ্কবাদের ধর্ম হয়না, এটা একটা নোঙরা practice. যেটা আমি বলে নয়, অধিকাংশ মানুষ মনে করেন । ধর্মীয় বিতর্ক নয়, সার্বিক সুস্থ বিকাশের প্রয়োজন, কোনও ধর্মেরই উচিত নয়, নিজেদের জঙ্গী মতবাদে দীক্ষিত করার ৷

সেলেবরা শুধু কথায় নয়
কাজেও এগিয়ে আসুন,
আপনাদের আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন নিহত সৈনিক পরিবারগুলোর মধ্যে, আর আমাদের বিশ্বাস আপনারা নিশ্চয় সেটা করবেন ৷

আর আরেকটা অনুরোধ সব্বার কাছে, ভারতবাসীর উচিত, পরবর্তী বছরগুলোতে, ১৪ই ফেব দিনটা শুধু “ভ্যালেনটাইন ডে” এর পরিবর্তে “NATIONAL LOSS DAY” হিসাবে পালন করার৷

আর আমি হয়তো এটাও জানি যে আমার এই অনুরোধটা অনুরোধ হিসাবেই ফেসবুকের পাতায় হারিয়ে যাবে, আজকের পর আর হয়তো কারো মনেও থাকবেনা……

আসলে লেখার ইচ্ছেটা তখন হারিয়ে ফেলি
যখন দেথি,
সমাজ কথা মানছেনা
মানবিক পরিবর্তন হচ্ছেনা
প্রতিশ্রুতি পচে গিয়ে অবক্ষয়ের আবহবিকার জমজমাট করছে..

তোমাদের – Anish Ranjan Chatterjee